শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০৫:১৪ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
লোকে-লোকারণ্য সমুদ্র সৈকত বাংলাদেশের রাষ্ট্রের যত বড় কর্তাই হউক তাদেরকে জনগনের কাছে জবাবদিহিতা করতেই হবে : সালাহউদ্দিন আহমেদ চকরিয়ায় হাতির আক্রমণে নারীর মৃত্যু টেকনাফে অপহৃত উদ্ধার : অস্ত্র সহ চক্রের ৩ সদস্য আটক প্রাথমিক শিক্ষাকে উন্নত করা গেলে সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে : প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা টেকনাফের ‘ডাকাত খায়ের’ সহযোগী নারী সহ গ্রেপ্তার কক্সবাজারে ‘জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থান’ এক শহীদ ও আহত ৪৭ জনকে সহায়তা প্রদান সেন্টমার্টিন থেকে সাগরে ফিরেছে ১৮৩টি কচ্ছপের বাচ্চা লুট করেই ৬ ট্রলার সহ ৫৬ জেলেকে ছেড়ে দিয়েছে ‘মিয়ানমারের নৌবাহিনী’ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রোহিঙ্গা কমিউনিটি নেতা নিহত

এবার কোরবানির পশু ৯ লাখ বেশি, বিক্রি নিয়ে দুশ্চিন্তা

প্রথম আলো : এবার কোরবানির পশুর হাটে ভারতীয় গরু আসবে কি না, এটা কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। কারণ, গরু-ছাগল উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন স্বয়ংসম্পূর্ণ। কোরবানির চাহিদার তুলনায় বরং ৯ লাখ পশু অতিরিক্ত রয়েছে। দুশ্চিন্তা হলো, খামার থেকে এত গবাদিপশু কোরবানির পশুর হাটে উঠতে পারবে কি না। উঠলেও বিক্রি হবে কি না।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের হিসাবে, এবার ঈদুল আজহায় কোরবানির জন্য ১ কোটি ১০ লাখ গবাদিপশু দরকার হবে। কিন্তু সারা দেশে খামারগুলোতে ১ কোটি ১৯ লাখ গরু-ছাগল-মহিষ-ভেড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। অর্থাৎ সরকারি হিসাবেই চাহিদার তুলনায় ৯় লাখ গবাদিপশু বেশি।

এদিকে গত তিন মাসে করোনা পরিস্থিতির কারণে নিয়মিত বাজারে অর্ধেকের কম গবাদিপশু বিক্রি হয়েছে। এই অবিক্রীত গরুগুলো কোরবানির হাটে ওঠার অপেক্ষায় আছে। এগুলোর পরিমাণ ১০ থেকে ১৫ লাখ।

দেশের প্রধান হাটের ঠিকাদারদের হিসাবে, গত বছরও হাটে তোলা গবাদিপশুর ১০ শতাংশ বিক্রি হয়নি। প্রায় ১০ লাখ গরু-ছাগল বিক্রি করতে না পেরে খামারিরা লোকসানের মুখে পড়েন। তবে হাটের শুরুতে যাঁরা বিক্রি করতে পেরেছিলেন, তাঁরা লাভের মুখ দেখেছিলেন।

দেশের গরু-ছাগলের খামারিদের জাতীয় সংগঠন বাংলাদেশ ডেইরি ফারমারস অ্যাসোসিয়েশনের হিসাবে, সরকার এবার কোরবানির হাটের যে চাহিদা নিরূপণ করেছে, তা থেকেও ২০ শতাংশ গবাদিপশু কম বিক্রি হবে। কারণ, ক্রেতাদের হাতে টাকা নেই। খামার থেকে হাটে গরু নিয়ে আসার মতো পুঁজি নেই। এবার ট্রাকভাড়াও বেশি। 

জানতে চাইলে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান অর্থনীতিবিদ কাজী খলীকুজ্জমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘করোনার কারণে মানুষের আর্থিক সামর্থ্য কমে এসেছে। ফলে অন্যান্য খাতের মতো গবাদিপশুর খামারিদের সংকটের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। তবে আমরা খামারিদের অর্থসহায়তার ব্যাপারে কাজ শুরু করেছি। আশা করি এই সংকট কেটে যাবে।’

ডেইরি ফারমারস অ্যাসোসিয়েশনের হিসাবে, দেশে সারা বছরে যত গবাদিপশু বিক্রি হয়, তার অর্ধেকেরও বেশি হয় কোরবানির পশুর হাটে। দেশে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আগে সারা দেশে দিনে ৪৫ কোটি টাকার গরু কেনাবেচা হয়েছে। সাধারণত মাংস বিক্রির জন্য কসাইদের কাছে এসব গরু বিক্রি হয়। কিন্তু গত মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে দিনে গড়ে ১০ কোটি টাকার বেশি গরু কেনাবেচা হয়নি।

সংগঠনটি বলছে, কোরবানির হাটে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার ব্যাপারে সরকার কতটুকু উদ্যোগ নেবে, তা নিয়ে তাদের সংশয় রয়েছে। কোরবানির হাট এমনিতেই অপরিচ্ছন্ন থাকে। গরু রাখার জায়গাগুলো যদি নিরাপদ দূরত্বে না থাকে, তাহলে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়বে।

জানতে চাইলে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম মনে করেন, করোনার কারণে বিশ্বজুড়ে যে আর্থিক সংকট দেখা দিয়েছে, তাতে সাধারণ মানুষের কাছে নগদ অর্থের সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে এবার গরুর হাটে বিক্রি কম হতে পারে। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘করোনার কারণে সীমান্ত বন্ধ থাকাসহ নানা কারণে এবারও ভারতীয় গরু বাংলাদেশে আসবে না। আমরা চেষ্টা করেছি ভারতীয় গরু ছাড়াই যাতে পশুর চাহিদা পূরণ করা যায়। এতে আমরা সফল হয়েছি।’

দেশে শিক্ষিত তরুণেরা ইদানীং বিপুল উৎসাহে গবাদিপশুর খামার গড়ে তুলছেন। তাঁরা বেশির ভাগই পারিবারিক উৎস থেকে বিনিয়োগ করছেন। আবার ভালো লাভ পাওয়ায় সাধারণ কৃষকেরাও গরু-ছাগল লালন-পালন বাড়িয়ে দিয়েছেন। ডেইরি ফারমারস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহ ইমরান বলেন, এই উৎসাহী তরুণেরা এবং কৃষক এবার করোনার কারণে ক্ষতির মুখে পড়বেন। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে তাঁদের জন্য কোনো আর্থিক সহায়তা ও প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হয়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

.coxsbazartimes.com

Design & Developed BY ThemesBazar.Com
themesbcox1716222888